অনেক ধূমপায়ীই মনে করেন যে সিগারেট স্ট্রেস কমাতে সহায়ক। অফিসে ঢোকার আগে বা খাবার পর সিগারেট না হলে তাদের দিন জমে না। তবে, বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ধূমপানের সময় মস্তিষ্কে যে ক্ষতি হয়, তা জানলে অনেকেই হয়তো দ্বিতীয়বার ভাববেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপায়ীদের মধ্যে মানসিক সমস্যার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। অন্তত ২০টি দেশে করা ৪২টি পৃথক সমীক্ষার রিপোর্টে বলা হয়েছে, যারা ধূমপান করেন তাদের মধ্যে স্কিৎজোফেনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ধূমপান না করা মানুষের তুলনায় পাঁচগুণ বেশি।
মানসিক সমস্যার সঙ্গে ধূমপানের সম্পর্ক
এডিএইচডি (অ্যাটেনশান ডেফিশিয়েট হাইপার অ্যাক্টিভিটি ডিসঅর্ডার):
এডিএইচডি রোগীদের মনোযোগের ঘাটতি এবং হাইপার অ্যাক্টিভিটির সমস্যা থাকে। যদিও এই রোগের পেছনে জেনেটিক কারণ থাকে, তবে ধূমপান কোমরবিডিটি ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ, ধূমপান এডিএইচডির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।
অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার:
নিকোটিন আসক্তদের মধ্যে অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডারের হারও অনেক বেশি। বিভিন্ন দেশের গবেষণায় দেখা গেছে, বাইপোলার ডিসঅর্ডার আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৩০-৭০ শতাংশই ধূমপায়ী।
ডিপ্রেশন:
ডিপ্রেশনের ক্ষেত্রেও সিগারেটের নিবিড় সম্পর্ক পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ডিপ্রেশনে ভোগা ৩০ শতাংশ মানুষ ধূমপায়ী, এবং অবসাদে ভুগতে থাকা মানুষের ৬০ শতাংশেরই অতীতে ধূমপানের অভ্যাস ছিল।
নিকোটিন ও স্ট্রেসের সম্পর্ক
ধূমপানের সঙ্গে স্ট্রেস কমার ধারণা সাধারণ হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের মতে, যারা ধূমপান করেন না তাদের মানসিক চাপ ধূমপায়ীদের তুলনায় কম থাকে। ধূমপানের সময় মনে হয়, এটি চাপ কমাতে সাহায্য করছে, কিন্তু আসলে তা সাময়িক। নিকোটিন মস্তিষ্কের ডোপামিন স্তরকে প্রভাবিত করে, ফলে সিগারেটের অভাবে মেজাজ খারাপ হয় এবং সেই স্ট্রেসকে কমানোর জন্য মানুষ আরও সিগারেটের দিকে ঝোঁকে।
ধূমপান ত্যাগ করলে স্ট্রেস কমে
ধূমপান ত্যাগ করার মাত্র ৩ মাস পরেই মস্তিষ্কের ডোপামিন নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, ধূমপান ছাড়লে মানসিক চাপ ধীরে ধীরে কমে। সিগারেট খাওয়া কেবল নিকোটিনের অভাবে সৃষ্ট বিরক্তি ও মানসিক চাপ কমায়, আসলে এটি নতুন করে চাপ তৈরি করে।
আসক্তির ভ্রান্তি
ধূমপায়ীরা মনে করেন সিগারেট সতেজতা আনে, কিন্তু এটি মুক্ত বাতাসে হাঁটাহাঁটি বা অন্য কোনো শারীরিক কার্যকলাপের মতো আসল সতেজতা আনে না। নিকোটিনের সাময়িক আনন্দের বদলে এটি দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক ও মানসিকভাবে বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তাই ধূমপানের আসক্তি থেকে মুক্ত হওয়া একান্ত প্রয়োজন, না হলে শরীর ও মস্তিষ্ক দুটোই ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে।
