অনেকেরই জীবনে শরীরের কোনো না কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, শরীরের সমস্যাগুলি সময়মতো সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ না করলে তা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
এর মধ্যে একটি সাধারণ সমস্যা হল পায়ের যন্ত্রণা, বিশেষ করে পায়ের মাংসপেশিতে টান ধরা। এটি অনেকের রাতের ঘুমের মধ্যে ঘটে থাকে, ফলে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয় এবং ঘুম ভেঙে যায়। এই অবস্থায় পা সোজা বা ভাঁজ করতে কষ্ট হয়। কখনো কখনো, সকালের দিকে হাঁটা শুরু করার সময়ও পায়ের পেশিতে টান পড়ে। সাধারণত, পায়ের পেছনের অংশে এবং পাতায় এই টান ধরার সমস্যা দেখা যায়, যা মাংসপেশির হঠাৎ শক্ত হয়ে যাওয়ার কারণে ঘটে। টান ধরার কারণে মাঝেমধ্যে ব্যথা ঊরুতেও উঠতে পারে এবং এটি কয়েক সেকেন্ড থেকে শুরু করে অনেকক্ষণের জন্য স্থায়ী হতে পারে।
পেশির টান ধরার কারণসমূহ:
- অতিরিক্ত ব্যায়াম বা পরিশ্রমের ফলে পায়ের পেশিতে চাপ পড়ে।
- দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা দাঁড়িয়ে কাজ করা।
- শরীরে পানিশূন্যতা।
- ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়ামের অভাব।
- গর্ভাবস্থার শেষ ৩ মাসে।
- পায়ে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হলে।
- মাদকাসক্তি, বাত, ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, কিডনি বা হার্টের সমস্যার কারণে।
এক্ষেত্রে ঘরোয়া কিছু ব্যবস্থা নিয়ে পায়ের ব্যথা কমানো যায়:
পায়ের পেশিতে টান পড়লে যা করবেন:
- পেশি প্রসারিত করলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়। পায়ের আঙুলগুলো নিজের দিকে টেনে পেশিকে শিথিল করা যায়।
- পায়ের নিচে বালিশ দিয়ে পা উঁচু করে রাখতে পারেন।
- হট ওয়াটার ব্যাগ দিয়ে গরম সেক দেওয়া যেতে পারে অথবা পেশি ফুলে গেলে আইসব্যাগ ব্যবহার করা যেতে পারে।
প্রতিরোধের উপায়:
- নিয়মিত পায়ের স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ করা উচিত।
- শরীরে পানিশূন্যতা রোধে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।
- ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া প্রয়োজন। যেমন: দুধ, ডিম, বাদাম, কলিজা, সবুজ শাকসবজি।
- ধূমপান ও মদ্যপান থেকে বিরত থাকুন।
- সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
- একটানা বসে কাজ না করে এক ঘণ্টা পরপর কিছুটা হাঁটাচলা করুন।
যদি সমস্যাটি বারবার ফিরে আসে, পেশি ফুলে যায় বা চামড়ার রঙ পরিবর্তন হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
