বিক্ষোভকারী কর্মকর্তারা জানান, তাঁরা জনপ্রশাসন সচিবের কাছ থেকে আশ্বাস পেয়ে সন্ধ্যায় সচিবালয় ত্যাগ করেন।
গত সোমবার অন্তর্বর্তী সরকার দেশের ২৫ জেলায় এবং মঙ্গলবার আরও ৩৪ জেলায় ডিসি নিয়োগ দেয়, দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মোট ৫৯ জেলায় ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়। যাঁরা ডিসি হতে পারেননি, তাঁরা এই দুটি প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবিতে গতকালও (মঙ্গলবার) বিক্ষোভ করেছিলেন এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেনের সঙ্গে দেখা করেন। ওই সময় প্রজ্ঞাপন বাতিলের আশ্বাস পেয়ে তাঁরা চলে যান।
আজ সকালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আট জেলায় নতুন ডিসির নিয়োগ বাতিল করে এবং চার ডিসির জেলা পরিবর্তন করে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হতে পারেননি ডিসি হতে আগ্রহী কর্মকর্তারা। দুপুরের পর তাঁরা আবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
বিকেলের দিকে জনপ্রশাসন সচিব মোখলেসুর রহমান মন্ত্রণালয়ের দোতলায় এক অনুষ্ঠান শেষে বের হলে তাঁকে ঘিরে ধরেন ৩০ থেকে ৪০ জন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, “আমি কি সরকার? আমি কি এ প্রজ্ঞাপন বাতিল করতে পারি?” এ কথা বলে তিনি নিচতলায় নেমে যান। কর্মকর্তারা পুনরায় তাঁকে ঘিরে ধরে অবশিষ্ট ৫১ জেলায় ডিসির নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান।
বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা নূরুল করিম ভূঁইয়া জানান, ডিসি নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিলের বিষয়ে জনপ্রশাসন সচিব আশ্বাস দিয়েছেন। নতুন নিয়োগ পাওয়া ডিসিদের যাতে সংশ্লিষ্ট জেলায় না যান এবং ঢাকায় অবস্থান করেন, সেটি নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
নতুন ডিসিদের ব্রিফিং স্থগিত
আজ সকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে নতুন ডিসিদের নিয়ে ব্রিফিং হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বিক্ষোভের কারণে তা স্থগিত করা হয়। দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগেও নতুন ডিসিদের নিয়ে পূর্বনির্ধারিত বৈঠক হয়নি। নতুন নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নতুন ডিসিদের ঢাকায় অবস্থান করতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, স্থগিত করা দুটি বৈঠক কবে হবে, তা পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।
হট্টগোলের কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন
ডিসি নিয়োগ নিয়ে কর্মকর্তাদের হট্টগোলের কারণ খতিয়ে দেখতে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব এম এ আকমল হোসেনের নেতৃত্বে একটি এক সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
নিয়োগ বাতিলের কারণ
নতুন ডিসি হওয়া আটজনের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে। যেমন, পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) থাকা অবস্থায় সরকারি কলেজের এক শিক্ষককে পা ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা, দলবাজি, এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।দুই বিভাগীয় কমিশনারকে বদলি
ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার মো. সাবিরুল ইসলাম ও রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মো. জাকির হোসেনকে প্রত্যাহার করে বদলি করা হয়েছে। তাঁদের পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
