ভারতের মহাকাশ গবেষণায় নতুন যুগ
ভারত মহাকাশ গবেষণায় ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছে। গত ২৩ আগস্ট, ২০২৩ তারিখে চন্দ্রযান-৩ সফলভাবে চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ করে। এর মাধ্যমে ভারত চতুর্থ দেশ হিসেবে চন্দ্রে সফলভাবে অবতরণ করার গৌরব অর্জন করল। চন্দ্রযান-৩-এর ল্যান্ডার বিক্রম ও রোভার প্রজ্ঞান চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। দুই সপ্তাহ পরে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে দিন শেষ হয়ে ১৪ দিনের জন্য রাত নামবে। তখন প্রজ্ঞান ও বিক্রমের কাজ শেষ হবে। কারণ, তারা সৌরশক্তিতে চলে। সৌরশক্তি না থাকায় তারা আর কাজ করতে পারবে না।
তবে ভারতের নজর এখন সূর্যের দিকেই। গত শনিবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৩ তারিখে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে সৌরযান আদিত্য এল ওয়ান রওনা হল। এটাই হলো ভারত থেকে সূর্যের দিকে যাওয়া প্রথম মহাকাশযান।
আদিত্য এল ওয়ান ১৫ লাখ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সূর্যের ল্যগারেজ পয়েন্টে পৌঁছাবে। ল্যগারেজ পয়েন্ট হলো এমন একটি স্থান যেখানে সূর্যের মহাকর্ষ এবং পৃথিবীর মহাকর্ষ প্রায় সমান। এই পয়েন্টে আদিত্য এল ওয়ান প্রায় ১০ বছর ধরে থাকবে।
আদিত্য এল ওয়ানে সাতটি পে-লোড রয়েছে। এই পে-লোডগুলি বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। যেমন, ভিএলসি পে-লোড সূর্যের কোরোনা স্তরের ছবি তুলবে। সোলেক্স পে-লোড নক্ষত্র হিসাবে সূর্য কেমন তা বিচার করবে। এসইউআইসি পে-লোড সূর্যস্পৃষ্ঠের ক্রোমোস্ফিয়ার ও ফটোস্ফিয়ারের ছবি ও তথ্য পাঠাবে।
আদিত্য এল ওয়ান মিশনের সাফল্য শুধু ভারতের জন্য নয়, গোটা বিশ্বের জন্যই একটি বড় অর্জন হবে। সূর্য সম্পর্কে এই মিশনের মাধ্যমে অনেক অজানা তথ্য জানা সম্ভব হবে। যা পরবর্তী বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চন্দ্রযান-৩ ও আদিত্য এল ওয়ানের সাফল্য ভারতের মহাকাশ গবেষণায় নতুন যুগের সূচনা করেছে। এই মিশনগুলি ভারতকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।
