পাঁচ মাস ধরে চলা সংঘাত এখন আর শুধু যুদ্ধক্ষেত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। প্রতিদিন নতুন নতুন বক্তব্য, পাল্টা হুমকি এবং কূটনৈতিক তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল হওয়ার অনেক দূরে।
ইরানের দাবি, ইসরাইলকে সমর্থন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে সংঘাতে জড়িয়েছে, সেটি এখন উল্টো ওয়াশিংটনের জন্যই বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদে এই সংঘাতের রাজনৈতিক, সামরিক এবং অর্থনৈতিক মূল্য যুক্তরাষ্ট্রকেই দিতে হবে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, সময় যত গড়াচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে কৌশলগত বিকল্প ততই সীমিত হয়ে আসছে। একদিকে সামরিক চাপ বজায় রাখার প্রশ্ন, অন্যদিকে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা—দুইয়ের মাঝখানে ভারসাম্য খুঁজে পাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কূটনৈতিক উদ্যোগকে সুযোগ দিতে ইরানের ওপর বিমান হামলা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্তকে স্থায়ী নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ইরানের অবস্থানে এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি সংঘাত স্থল অভিযানে রূপ নেয়, তাহলে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখাও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ব্যয়বহুল হতে পারে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। আবার পূর্বের কোনো সমঝোতায় ফিরে গেলে তা দেশীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে দুর্বলতা হিসেবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ পেতে পারেন ট্রাম্পের বিরোধীরা।
এদিকে যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, তা সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি অস্ত্র রয়েছে এবং দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় কোনো সংকট নেই।
এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওয়াশিংটন সফর নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বৈঠকে যুদ্ধ পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠক ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের দিকনির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, পাঁচ মাসের এই সংঘাত এখন শুধু একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ নয়; এটি আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্য, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় একটি পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে কূটনীতি নাকি সামরিক পদক্ষেপ—কোন পথ বেছে নেওয়া হবে, সেটিই নির্ধারণ করতে পারে এই সংকটের পরবর্তী অধ্যায়।
