যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কমলা হ্যারিস ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম টিভি বিতর্ক ছিল রীতিমতো উত্তেজনাপূর্ণ। একে অপরকে একচুলও ছাড় দিতে চাননি তারা। এই টিভি বিতর্ককে বলা হচ্ছে ‘ফায়ারি ডিবেট’। ফিলাডেলফিয়ায় এবিসি টিভি চ্যানেলের আয়োজিত বিতর্কে তারা অর্থনীতি, গর্ভপাত, অভিবাসন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত, ক্যাপিটলের দাঙ্গা সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন এবং পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন।
অর্থনীতি ও ধনী-গরিব বৈষম্য
কমলা হ্যারিস অর্থনীতির বিষয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে, তিনি শুধুমাত্র ধনীদের জন্য করছাড়ের পরিকল্পনা করছেন এবং সাধারণ মানুষের জন্য তার কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই। তার বক্তব্য, ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতি সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত বোঝা চাপাবে। জবাবে ট্রাম্প বলেন, কমলা হ্যারিসের কোনো মৌলিক পরিকল্পনা নেই, এবং তিনি বাইডেনের নীতিগুলো নকল করছেন।
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যু
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কমলা হ্যারিস উভয়ের কাছেই ইসরায়েল-হামাস সংঘাত থামানোর প্রস্তাব জানতে চাওয়া হয়। হ্যারিস ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন করেন এবং টু-স্টেট সমাধানের পক্ষে কথা বলেন। অন্যদিকে, ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি প্রেসিডেন্ট হলে এই সংঘাতের সূত্রপাতই হতো না এবং হ্যারিসকে ইসরায়েল-বিরোধী হিসেবে অভিহিত করেন।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ
ট্রাম্প অভিযোগ করেন যে বাইডেন প্রশাসন ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন হতে দিয়েছে এবং তিনি এই যুদ্ধ দ্রুত বন্ধ করতে চান। কমলা হ্যারিস পাল্টা অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হলে পুতিন ইউক্রেন দখল করে নিতেন।
ক্যাপিটল হিল দাঙ্গা
ক্যাপিটল হিলের দাঙ্গা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, তার এই ঘটনার সঙ্গে কোনো লেনদেন ছিল না এবং তিনি অনুতপ্ত নন। কমলা হ্যারিস এই বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ করেন এবং দাঙ্গার সময়কার বিশৃঙ্খলা তুলে ধরেন।
গর্ভপাত ইস্যু
গর্ভপাত নিয়ে ট্রাম্প ও হ্যারিসের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা যায়। ট্রাম্প গর্ভপাতের বিষয়ে রাজ্যগুলোকে সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়ার পক্ষে মত দেন, তবে কমলা হ্যারিস তার শাসনামলে গর্ভপাতের অধিকারে ব্যাপক হস্তক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তাকে কঠোর সমালোচনা করেন।
শেষ মন্তব্য
বিতর্ক শেষে কমলা হ্যারিস বলেন, ‘আমরা আর পিছনে ফিরে যেতে চাই না, আমরা সামনের দিকে তাকাতে চাই।’ অন্যদিকে, ট্রাম্প দাবি করেন, কমলা হ্যারিস মানুষের জন্য চাকরি তৈরি করতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাই তার এখনই সরে দাঁড়ানো উচিত।
আরও পড়ুন
ইলন মাস্কের মঙ্গল অভিযান: কমলা হ্যারিসকে বাদ দেওয়ার ঘোষণা, ট্রাম্পকে সমর্থন
