বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গত ১৫ বছর ধরে বিএনপি ও দেশের জনগণের ওপর স্টিমরোলার চালিয়েছে শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী সরকার। ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের ফলে দেশে এই স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে, কিন্তু কেউ যদি গণতন্ত্রকে লুট করার চেষ্টা করে, তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
আজ মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, "এখন আমরা মুক্ত বাতাসে কথা বলতে ও সমাবেশ করতে পারছি। অনেক ত্যাগ ও আত্মত্যাগের ফলে স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। তবে বর্তমান সরকারেও অনেক ফ্যাসিবাদী শক্তি রয়েছে, যারা গণতন্ত্রকে বিপন্ন করতে পারে। তাদের সম্পর্কে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।"
বিএনপির সমাবেশে নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস
বিএনপির মহাসচিবের ভাষণের আগে থেকেই রাজধানীর নয়াপল্টনে সমাবেশকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের ঢল নামে। তীব্র রোদ উপেক্ষা করে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে আসা নেতাকর্মীরা পুরো এলাকাকে স্লোগানে প্রকম্পিত করে তোলেন। তারা জাতীয় ও দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে উল্লাস করেন এবং বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে স্লোগান দেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথি এবং উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে এই সমাবেশের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং পরিচালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
উল্লেখযোগ্যভাবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতারা।
বক্তব্য দেন অন্যান্য নেতৃবৃন্দ
চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিনসহ অন্যান্য নেতারা তাদের বক্তব্যে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের প্রশংসা করেন এবং সরকারের দমননীতি সম্পর্কে সতর্ক করেন।
নেতাকর্মীদের বিশাল উপস্থিতি
সমাবেশে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলার হাজারো বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, ঢাকা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ এবং কেন্দ্রীয় নেতা প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুলসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা সমাবেশে অংশ নেন, যা জনস্রোতের আকার ধারণ করে।
