পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির নতুন ঘোষণা: অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগ
পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরির ঘোষণা সাধারণত পাঁচ বছর পরপর করা হলেও এবার তা আগেই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। শ্রম অসন্তোষের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার জন্য আজ বুধবার সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
মজুরি পর্যালোচনার সম্ভাবনা এবং নতুন সিদ্ধান্ত
আন্তমন্ত্রণালয় সভায় শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ব্রিফিংয়ের পর বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবদুল্লাহিল রাকিব বলেন, “আমরা কারখানায় গিয়ে শ্রমিকদের কথা শুনব। প্রয়োজনে ন্যূনতম মজুরি পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যা করতে ছয় মাস থেকে এক বছর সময় লাগতে পারে।”
এছাড়া, সভায় আটটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা অবিলম্বে পরিশোধের ব্যবস্থা করা, শ্রমসংক্রান্ত অভিযোগ পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা, এবং শ্রমিকদের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা বা ঋণ সুবিধা প্রদানের বিষয়টি।
অসন্তোষের পটভূমি এবং বর্তমান অবস্থা
১ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ছয়টি জেলার কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটেছে। গাজীপুর জেলায় ২৩৪টি কারখানা, ঢাকা জেলার ১৬৮টি, নারায়ণগঞ্জে ৩৯টি, ময়মনসিংহে ২১টি, চট্টগ্রামে ১৯টি, পাবনায় ২টি এবং নরসিংদীতে ১টি কারখানায় এই ঘটনা ঘটেছে।
শ্রমিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে মাসের ৭ তারিখে মজুরি প্রদান, বার্ষিক ১০ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধি, অর্জিত ছুটির টাকা পরিশোধ, টিফিন বিল, নাইট বিল, খাবার বিল বৃদ্ধি, এবং ঈদের ছুটি ১১ দিন করা।
মজুরি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপট এবং বিশেষজ্ঞ মতামত
২০২৩ সালের নভেম্বরে শ্রমিকদের মজুরি আগের তুলনায় সর্বনিম্ন ৫৪ থেকে সর্বোচ্চ ৫৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। তারপরও শ্রমিকেরা ন্যূনতম ২৩ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। এই প্রেক্ষাপটে, সিপিডি গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, “মজুরি বৃদ্ধির সময়সীমা পাঁচ বছরের পরিবর্তে দুই থেকে তিন বছরে নামিয়ে আনা যেতে পারে। এছাড়া, মজুরির পুরো দায় কারখানামালিকের ওপর না চাপিয়ে বিদেশি ক্রেতাদেরও নিতে হবে।”
পরবর্তী পদক্ষেপ
আগামীকাল বৃহস্পতিবার শ্রমসচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান গাজীপুরের মাজার রোডে শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শন করবেন। এতে শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
এই উদ্যোগগুলো শ্রমিকদের মজুরি কাঠামো উন্নত করতে এবং শ্রম অসন্তোষের সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
