টাইম টেলিভিশনের ওপর নিষেধাজ্ঞা: শেখ হাসিনা সরকারের চাপ ও পরবর্তীতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
ক্ষমতার মসনদকে আরও মজবুত করতে দেশ ছাড়াও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে টার্গেট করেছিল শেখ হাসিনা সরকার। সমালোচনা বা বিরোধী মত প্রচার হলে সেই সংবাদমাধ্যমগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হতো। হুমকি-ধমকি এবং বিভিন্ন অপপ্রচারের মাধ্যমে তাদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হতো।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির জনপ্রিয় টাইম টেলিভিশনও এই বৈরী দৃষ্টির শিকার হয়েছিল। বিভিন্নভাবে চাপে রেখেও টাইম টেলিভিশনকে থামানো না গেলে, শেষ পর্যন্ত কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। সরকার প্রধানের যেকোনো অনুষ্ঠানে টেলিভিশনটির প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।
তথ্য মতে, সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে প্রথম সাক্ষাৎকার নেয় টাইম টেলিভিশন। এরপরই টেলিভিশন ও এর সিইও আবু তাহেরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু হয়। সাক্ষাৎকারটি যাতে প্রচার না হয়, সেজন্য ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেওয়া হয়।
২০১৯ সালে জাতিসংঘ অধিবেশনকালে তখনকার স্থায়ী প্রতিনিধি ও পরবর্তীতে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন টাইম টেলিভিশনের সিইও আবু তাহেরকে তার অফিসে আমন্ত্রণ জানান। আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যেকোনো অনুষ্ঠানে টাইম টেলিভিশনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত অবহিত করেন। কারণ হিসেবে সরকারবিরোধী ধারণার কথা উল্লেখ করেন। আগের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. আব্দুল মোমেনও প্রধানমন্ত্রীকে জানান যে, টাইম টেলিভিশনের সঙ্গে ড. মোহাম্মদ ইউনূসের সম্পর্ক রয়েছে। কোনো প্রমাণ ছাড়াই ধারণার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আবু তাহের জানান, টাইম টেলিভিশন ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করার পর থেকেই বিভিন্নভাবে কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে শেখ হাসিনার যেকোনো অনুষ্ঠানে টাইম টেলিভিশনের প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়। এ ছাড়া একাধিকবার তাকে বাংলাদেশে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। নিউ ইয়র্কের ৬ জন স্টেট সিনেটরের সঙ্গে বাংলাদেশে সফরে যাওয়ার সময়ও ডিজিএফআই থেকে তাকে ফোন করে কথা বলতে চাওয়া হয়, যা তাকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগিয়েছে।
সরকার পরিবর্তনের পর টাইম টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ জানতে চেয়েছে নিষেধাজ্ঞা এখনও বহাল আছে কি না। পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের কাছে পাঠানো চিঠিতে তারা এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান। সাবেক পররাষ্ট্র সচিব উত্তরে জানান, এখন আর সেই বিধিনিষেধ নেই এবং টাইম টেলিভিশনকে মুক্তভাবে সংবাদ সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
