বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চলমান। বর্তমান কোটা ব্যবস্থা অনুযায়ী ৫৬ শতাংশ পদ কোটাভিত্তিক এবং ৪৪ শতাংশ পদ মেধার ভিত্তিতে পূরণ করা হয়।
কোটার ভাগাভাগি:
- মুক্তিযোদ্ধা কোটা: ৩০ শতাংশ
- নারী কোটা: ১০ শতাংশ
- জেলা কোটা: ১০ শতাংশ
- ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী কোটা: ৫ শতাংশ
- প্রতিবন্ধী কোটা: ১ শতাংশ
২০১৮ সালে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডের (প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি) সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে কোটা বহাল রাখা হয়।
কোটাব্যবস্থার ইতিহাস:
- ১৯৭২-১৯৭৬: ২০ শতাংশ পদে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হতো এবং ৮০ শতাংশ পদে কোটায় নিয়োগ হতো।
- ১৯৭৬: মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ৪০ শতাংশে বাড়ানো হয়।
- ১৯৮৫: প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে ৪৫ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের নিয়ম চালু করা হয়, এবং বাকি ৫৫ শতাংশ অগ্রাধিকার কোটায় নিয়োগ দেওয়া হয়।
কোটাব্যবস্থায় মুক্তিযোদ্ধা কোটা শুরু থেকেই ছিল। পরে এ কোটায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং তারপর নাতি-নাতনি যুক্ত করা হয়।
কোটার বিপুল পদ শূন্য থাকায় সিদ্ধান্ত হয়, কোটায় উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া না গেলে তা মেধাতালিকা থেকে পূরণ করা হবে।
কোটা পুনর্বহাল সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়: ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর কোটাব্যবস্থা বাতিল করার পরিপ্রেক্ষিতে, ২০২১ সালে রিট করেন চাকরিপ্রত্যাশী ও বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান অহিদুল ইসলামসহ সাতজন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দেন এবং চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৩ সালের ৫ জুন রায় দেন। আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য ৪ জুলাই ২০২৩ তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
এই রায়ের পর আইনজীবীরা মন্তব্য করেন যে, সব কোটা, নাকি শুধু মুক্তিযোদ্ধা কোটা ফিরবে তা হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় পেলে বলা যাবে।
কোটা পুনর্বহাল সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে করা আবেদন: দুই শিক্ষার্থী এবং রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন শুনানির জন্য আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় সময় নির্ধারণ করেছেন আপিল বিভাগ।
সারসংক্ষেপ: বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা এক দীর্ঘমেয়াদি এবং বিতর্কিত বিষয়। ২০১৮ সালে কোটা বাতিল করা হলেও, ২০২৩ সালে হাইকোর্টের রায়ে তা পুনর্বহাল হতে পারে। আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য এই রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
