28 June 2024

এনবিআরের প্রথম সচিবের স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়ির নামেও সম্পদ

 

এনবিআরের প্রথম সচিবের স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়ির নামেও সম্পদ


জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রথম সচিব কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাটের সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুর্নীতির অভিযোগে ফয়সাল ও তাঁর স্ত্রীর নামে থাকা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জে পাঁচ কাঠার দুটি প্লট এবং শ্বশুরের নামে থাকা ঢাকার রমনা এলাকার ফ্ল্যাটসহ কয়েকটি সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।

দুদক জানায়, ফয়সাল ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা প্রায় ৭ কোটি টাকা অবরুদ্ধ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার আদালতে ফয়সালের সম্পদের বিবরণী তুলে ধরেছে দুদক। আদালতের আদেশে বলা হয়, ফয়সাল ও তাঁর আত্মীয়স্বজনের নামে থাকা ১৯টি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৮৭টি হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল বিসিএস (কর) ক্যাডারে সহকারী কর কমিশনার হিসেবে ২০০৫ সালে যোগ দেন এবং বর্তমানে এনবিআরের আয়কর বিভাগের প্রথম সচিব (ট্যাক্সেস লিগ্যাল অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট) পদে রয়েছেন। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা খুলনার খান এ সবুর রোডের মুজগলি এলাকায়।

দুদকের আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের জুনে রাজধানীর ভাটারা এলাকায় ফয়সালের নামে পাঁচ কাঠার একটি প্লট কেনা হয়। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তাঁর নামে চারটি দলিলে জমি কেনা হয়। এছাড়াও ফয়সালের স্ত্রী আফসানা জেসমিনের নামে ভাটারা ও রূপগঞ্জে জমি কেনা হয়েছে।

ফয়সালের শ্বশুর আহমেদ আলীর নামে রাজধানীর রমনা এলাকায় একটি ফ্ল্যাট এবং শাশুড়ি মমতাজ বেগমের নামে খিলগাঁওয়ে ১০ কাঠার একটি প্লট রয়েছে। এছাড়াও, ফয়সাল ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব ও সঞ্চয়পত্রের তথ্যও আদালতে জমা দিয়েছে দুদক, যাতে দেখা যায় তাঁদের নামে সঞ্চয়পত্রের মোট মূল্য প্রায় ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোশারফ হোসেন কাজল জানিয়েছেন, ফয়সাল ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ১৬ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুদক। আদালত এসব সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করার আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজ আদালতকে জানান, ফয়সাল সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ লেনদেন করেছেন এবং দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত আয়ের উৎস গোপনের জন্য নিজের নামসহ আত্মীয়স্বজনের নামে ৭০০টির বেশি হিসাব খোলেন।

দুর্নীতি কমানোর লক্ষ্যে প্রত্যেক সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীর সম্পদের হিসাব জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, দুর্নীতি কমাতে অসাধু কর্মকর্তা–কর্মচারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।