বেইলি রোডের ভবনে অগ্নিকাণ্ড: কোনো অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না, ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করা হয়েছিল
ঢাকা, ০১ মার্চ ২০২৪: রাজধানীর বেইলি রোডের সাততলা ভবনে লাগা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আজ শুক্রবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি পরিদর্শনে গিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, ভবনে কোনো অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। এমনকি, ঝুঁকিপূর্ণ বলে ভবন কর্তৃপক্ষকে তিনবার চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব:
- ভবনে কোনো ফায়ার সেফটি প্ল্যান ছিল না।
- বেশির ভাগ রেস্তোরাঁয় অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ছিল না।
- ভবনের সিঁড়িতে বড় বড় গ্যাস সিলিন্ডার রাখা হয়েছিল।
- ভবনের নিচতলা থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্কতা:
- ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে কর্তৃপক্ষকে তিনবার চিঠি দিয়েছিল।
- সর্বশেষ চিঠি দেওয়া হয়েছিল গত বছরের ডিসেম্বরে।
- কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
তদন্ত:
- ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
- কমিটিকে ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
- কার কতটুকু দায়, তা তদন্তে বের হবে।
ক্ষয়ক্ষতি:
- ভবনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
- ভবনের ভেতরে থাকা অনেক দোকান ও রেস্তোরাঁ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
- ৪৬ জন নিহত এবং অনেকে আহত হয়েছেন।
সরকারের পদক্ষেপ:
- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
- সরকার ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার জন্য সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
এই ঘটনাটি ঢাকায় সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের একটি।
এই ঘটনা থেকে শিক্ষা:
- ভবনগুলোতে অবশ্যই যথাযথ অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখতে হবে।
- ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।
- অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
- জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
