ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে বুদ্ধিমান মানুষ

ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে বুদ্ধিমান মানুষ

উলুল আলবাবের বৈশিষ্ট্য

উলুল আলবাব বা বুদ্ধিমান তারাই, যারা সুস্থ জ্ঞান ও বুদ্ধির অধিকারী। যার মাধ্যমে তারা কল্যাণ চিনতে পেরে তা অনুসরণ করে এবং অকল্যাণ চিহ্নিত করে তা থেকে বিরত থাকে। কোরআনের ১৬ জায়গায় ‘উলুল আলবাব’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে, যার মাধ্যমে সেসব বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ ব্যক্তিদের বোঝানো হয়েছে।

জ্ঞানী ও বুদ্ধিমত্তার প্রকৃতি

জ্ঞানী ও বুদ্ধিমত্তা হলো একটি জটিল বিষয়। এর কোনো সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। তবে সাধারণভাবে বলা যায়, জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা হলো এমন ব্যক্তিরা যারা সত্য-মিথ্যা, ভালো-মন্দ, কল্যাণ-অকল্যাণ ইত্যাদি বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে পারে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তারা নিজেরা সুস্থ চিন্তা করতে পারে, অন্যদেরও সুস্থ চিন্তা করতে সাহায্য করতে পারে।

মৃত্যুর স্মরণ

মৃত্যু হলো একটি অনিবার্য সত্য। প্রত্যেক মানুষকে একদিন মৃত্যুবরণ করতে হবে। মৃত্যুর স্মরণ মানুষকে দুনিয়ার ভোগ-বিলাসের প্রতি অনাগ্রহী করে তোলে এবং আখেরাতের জন্য প্রস্তুতি নিতে উৎসাহিত করে।

মৃত্যুর স্মরণ ও পরকালের প্রস্তুতি

মৃত্যুকে বেশি স্মরণ ও পরকালের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণই সর্বাধিক বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক। কেন না মৃত্যুর স্মরণই মানুষকে পরকালের প্রস্তুতি গ্রহণের দিকে মনোযোগী করে। হাদিসও সে কথারই প্রমাণ। সুতরাং পার্থিব জীবনটাকেই জীবন ও মৃত্যুর মাধ্যমে চূড়ান্ত সমাপ্তির মতো সরল চিন্তা করা বুদ্ধিমানদের কাজ হবে না।

উলুল আলবাব বা বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের উচিত সবসময় মৃত্যুর কথা স্মরণ রাখা। সুখে-দুঃখে, সবসময় মনে রাখতে হবে যে মৃত্যুর পরও আমাদের জীবন চলতে থাকবে। পরকালের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিত।

জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা হলো এমন ব্যক্তিরা যারা মৃত্যুর স্মরণ রাখে এবং পরকালের জন্য প্রস্তুতি নেয়। তারাই প্রকৃত উলুল আলবাব।

Theme images by merrymoonmary. Powered by Blogger.