কংগ্রেসের হাতিয়ার রাফাল দুর্নীতি, বিজেপির নিরাপত্তা
দেশের নিরাপত্তাকেই হাতিয়ার করে ভোটে জিততে মরিয়া ভারতের শাসক দল বিজেপি। তবে কংগ্রেস নিরাপত্তা ক্ষেত্রে বিজেপির দুর্নীতির অভিযোগকেই হাতিয়ার করতে চায়। লোকসভা ভোটের তিন মাস আগে থেকেই ভারতে রাজনৈতিক প্রচার তুঙ্গে।
২০১৪ সালে বিজেপির প্রধান হাতিয়ার ছিল দুর্নীতি। সেই সঙ্গে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ছিল টিম নরেন্দ্র মোদির প্রধান হাতিয়ার। সেই হাতিয়ারেই কাবু কংগ্রেস। সরকার গড়ে বিজেপি।
এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। রাফাল যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে শাসক দলের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগে সোচ্চার কংগ্রেস। খোদ কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী সরাসরি তোপ দাগছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দিকে।
সেই সঙ্গে দলের কৌশলও পরিষ্কার করে দেন অমিত। আগরতলায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বিজেপি সভাপতি জানান, লোকসভা ভোটে দেশের নিরাপত্তা ও উন্নয়নকে ইস্যু করবে বিজেপি। তাঁর অভিযোগ, রাফাল যুদ্ধ বিমান ইস্যুতে দেশের নিরাপত্তা ও সম্মানকেই খাটো করার চেষ্টা করছে। সেই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি ফের সরকার গঠন করবে।
গতকাল শনিবার আগরতলায় দুদিনের সফরে এসে বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ অবশ্য সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেন, রাফাল যুদ্ধবিমান কেনায় এক পয়সায় দুর্নীতি হয়নি।
তবে কংগ্রেসও পাল্টা আঘাত হানতে কার্পণ্য করেনি। ত্রিপুরার প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গোপাল রায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেশের নিরাপত্তার কথা বলে এখন মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতে চাইছে। লাভ হবে না।’ গোপাল রায়ের সাফকথা, ‘মোদিজি দুর্নীতিতে যুক্ত। তাই কংগ্রেস সভাপতির অভিযোগের কোনো জবাব না দিয়ে অন্য কথা বলছেন।’
সিপিএমও রাফাল যুদ্ধবিমান নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে সরব। লোকসভায় সিপিএমের সাংসদ জিতেন চৌধুরী মোবাইলে প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাফেল নিয়ে সাহস থাকলে বিজেপি জেপিসি (যৌথ সংসদীয় কমিটি) গঠন করুক। সেটা না করে উল্টোপাল্টা বলে চলেছে। দেশের মানুষ সব বোঝেন। বোকা ভাববার কোনো কারণ নেই।’
একই সঙ্গে সিপিএম সাংসদ দাবি করেন, নিজেদের হার বুঝতে পেরে এখন ফের রামমন্দির, হিন্দুত্বের তাস সামনে নিয়ে আসতে চাইছে গেরুয়া শিবির। কিন্তু আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির পরাজয় নিশ্চিত বলেই দাবি করেন তিনি।
