কক্সবাজারের আশ্রয় শিবির থেকে পালাচ্ছে রোহিঙ্গারা
মিয়ানমারে নির্যাতন থেকে প্রাণে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পর কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা। সাড়ে ছয় হাজার একরেরও বেশি বনভূমির উজাড় করে নির্মাণ করা ৩২টি ক্যাম্পে তাদের আশ্রয় দেয়া হয়। সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা তাদের জন্য অস্থায়ী বাসস্থান, খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা ও শিক্ষাসহ সবরকম সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।
রোহিঙ্গারা দালালের সহায়তা নিয়ে কিংবা ক্যাম্পের বাইরে থাকা আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানালেন উখিয়া পালংখালী ইউনিয়ন ইউপি সদস্য নুরুল আবছার। কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের উখিয়ার একটি চেক পোস্টে কর্মরত পুলিশ উপ-পরিদর্শক মো: কামাল, প্রায় প্রতিদিনই আটক হচ্ছে ক্যাম্প ছেড়ে পালানো রোহিঙ্গারা।
তারপরও নানা কৌশলে আশ্রয়শিবির থেকে পালিয়ে দেশের বিভিন্নস্থানে ছড়িয়ে পড়ছে রোহিঙ্গারা। গত ১৭ মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ৫৯ হাজার রোহিঙ্গাকে আটকের পর ক্যাম্পে ফেরত পাঠিয়েছে পুলিশ। তাদের সহযোগিতা করায় ৫শ’র বেশি দালালকে আটক করা হয়েছে।
রোহিঙ্গারা যাতে আশ্রয়ক্যাম্প ছেড়ে পালাতে না পারে সেজন্য ৭টি চেকপোস্টে ২৪ ঘন্টা দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ সদস্যরা। তবে আশ্রয় শিবিরে সীমানা প্রাচীর বা কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মো. ইকবাল হোসাইন।
কক্সবাজারের আশ্রয়শিবির থেকে পালিয়ে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়া রোহিঙ্গাদের খুঁজে বের করা দিন দিন কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলেও জানান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।