জনপ্রিয় প্রার্থীর খোঁজে আ’লীগ

দশম সংসদের ২৩৪ দলীয় এমপি থেকে ১০০ প্রভাবশালী, ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতার নাম ফের মনোনয়নের জন্য স্থির করেছে আওয়ামী লীগ। আরও ৫০ এমপির আমলনামা যাচাই-বাছাই শেষে মনোনীতদের তালিকায় স্থান দেবেন দলের হাইকমান্ড।
বাকিদের ভাগ্যে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন জুটছে না বলেই আভাস দিচ্ছেন ক্ষমতাসীন পার্টির নীতিনির্ধারকরা। দল ও সরকারের ইমেজ ক্ষুণ্ণকারীরা আছেন বাদ পড়ার তালিকায়। এসব আসনে সন্ধান করা হচ্ছে নতুন মুখ।

এ ধরনের বিতর্কিত এমপি শনাক্তে সরকারি ও বেসরকারি কয়েকটি সংস্থা কাজ করছে। অনেকের রিপোর্ট এখন প্রধানমন্ত্রীর হাতে। এর বাইরেও দলের সাংগঠনিক সফরে থাকা ১৫টি টিমের হালনাগাদ তথ্যও সংযোজিত হচ্ছে মূল তালিকায়। দলীয় সভাপতির নির্দেশে সাংগঠনিক সম্পাদকরা ও কয়েকটি বিশেষ টিম আসন ধরে ধরে প্রার্থীদের বায়োডাটা সংগ্রহ করছেন। সেগুলো পর্যালোচনা করে তালিকা তৈরি হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, ইতিমধ্যে অভিযুক্তদের তালিকার কাজ শেষ হয়েছে। অভিযুক্তদের অনেকেই আইনের আওতায় আছেন। বাকিদের বিরুদ্ধেও আইনি প্রক্রিয়া চলছে। বিতর্কিতদের অধিকাংশই আইনি জটিলতায় বাদ পড়বেন। চাইলেও তাদের মনোনয়ন দেয়া সম্ভব হবে না। সেক্ষেত্রে বর্তমান সংসদের কমপক্ষে ১০০ এমপি বাদ পড়ার তালিকায় আছেন বলেও জানায় আওয়ামী লীগের এ নির্ভরযোগ্য সূত্রটি।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ সংসদীয় মনোনয়নের বোর্ডের অন্যতম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বুধবার যুগান্তরকে বলেন, আমরা ১০০’র মতো আসনে এমপি প্রার্থী চূড়ান্ত করেছি। এসব আসনে মনোনীত প্রার্থীদের গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। বাকি ২০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্তের কাজ চলছে। আগামী ঈদের পরেই এসব আসনের বিপরীতে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শেষ হবে। তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে ৩০০ আসনের প্রার্থীর নাম প্রকাশের কোনো সম্ভাবনা নেই।
আওয়ামী লীগ জরিপ টিমের সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে গত দেড় বছর ধরে ৩ মাস পরপর মাঠ জরিপ করছেন। সেখানে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে আলোচিত-সমালোচিত মন্ত্রী-এমপিদের নাম ওঠে এসেছে।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে- এসব আসনে ফের তাদের মনোনয়ন দেয়া হলে প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া অসাধ্য হবে। এসব মন্ত্রী-এমপিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ প্রার্থী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের কারও বিরুদ্ধে এলাকায় জনপ্রিয়তা হ্রাস, জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া, অনেকের বিরুদ্ধে দখল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা, অনৈতিকভাবে বিত্তবৈভব গড়ার মতো অভিযোগ আনা হয়েছে। কারও বিরুদ্ধে আনা হয়েছে সন্ত্রাস ও দলীয় কোন্দল সৃষ্টির অভিযোগ।
দলীয় নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এমনকি বিএনপি-জামায়াত নেতাদের নিয়েও নিজস্ব বলয় সৃষ্টির অভিযোগও আছে কারও বিরুদ্ধে। আর এসব কারণে প্রার্থী বাছাইয়ে সময় নিচ্ছে আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের দুই নেতা যুগান্তরকে জানান, দলের কার্যনির্বাহী কমিটির প্রতিটি সভায় বিতর্কিতদের মনোনয়ন না দেয়ার কথা বলেছেন দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলে কে কি করেন, কার জন্য দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে সে তালিকাও আছে দলীয় সভাপতির কাছে। জনবিচ্ছিন্ন ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব সৃষ্টিকারীদের শেষ সুযোগও দিয়েছেন তিনি। এরপরও নিজেদের শোধরাতে পারেননি বিতর্কিত অনেক এমপি।
৩১ মার্চ দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় পুনরায় বিতর্কিত নেতাদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। ওই সব এলাকায় ক্লিন ইমেজ ও জনপ্রিয় প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য সাংগঠনিক সম্পাদকদের নির্দেশ দেন দলের সভাপতি।

এছাড়া অন্যান্য ও জোট বন্ধুদের ৬৬ আসনেও বরাবরের মতো দলীয় প্রার্থী দেবে শাসক দল। অক্টোবরের আগেই ৩০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত হবে। সংসদ নির্বাচনের তফসিলের পরপরই প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার ‘গডফাদার’ ও ‘জনবিচ্ছিন্ন’ সংসদ সদস্যদের মনোনয়ন না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যেসব এমপির বিরুদ্ধে এলাকায় খুন, দুর্নীতি, মাদক ব্যবসা, ঋণ খেলাপি, টেন্ডার-চাঁদাবাজিসহ দখলদারিত্বের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তারা কেউ মনোনয়ন পাবেন না।
একই বিষয়ে বিভিন্ন সভা-সেমিনারে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে সংশোধনের কথা বলছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
Theme images by merrymoonmary. Powered by Blogger.